ডিমের উপকারিতা: হাঁসের ডিম বনাম মুরগির ডিম—কোনটি বেশি পুষ্টিকর?
ডিমের উপকারিতা: হাঁসের ডিম নাকি মুরগির ডিম—কোনটি বেশি উপকারী?
ডিম আমাদের দৈনন্দিন খাবারের একটি পরিচিত ও পুষ্টিকর অংশ। সহজলভ্য, তুলনামূলকভাবে কম খরচে পাওয়া যায় এবং এতে উচ্চমানের প্রোটিনের পাশাপাশি বিভিন্ন ভিটামিন, খনিজ ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রয়েছে।
তবে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে—মুরগির ডিম নাকি হাঁসের ডিম বেশি পুষ্টিকর? হাঁসের ডিম কি সত্যিই মুরগির ডিমের চেয়ে বেশি উপকারী? আবার ডিমের কুসুমে থাকা কোলেস্টেরল নিয়ে কতটা চিন্তা করা উচিত?
এই লেখায় ডিমের পুষ্টিগুণ, সম্ভাব্য স্বাস্থ্য উপকারিতা এবং হাঁসের ডিম ও মুরগির ডিমের বৈজ্ঞানিক পার্থক্য তুলে ধরা হলো।
ডিমে কী কী পুষ্টি থাকে?
ডিমকে একটি nutrient-dense food, অর্থাৎ তুলনামূলকভাবে অল্প পরিমাণ খাবারে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি পাওয়া যায়—এমন খাবার হিসেবে বিবেচনা করা যায়।
ডিমে রয়েছে—
- উচ্চমানের প্রোটিন
- ভিটামিন B12
- রিবোফ্লাভিন (Vitamin B2)
- ভিটামিন A
- ভিটামিন D
- ফোলেট
- সেলেনিয়াম
- ফসফরাস
- আয়রন
- কোলিন
- লুটেইন ও জিয়াজ্যান্থিন
- বিভিন্ন প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড
বিশেষ করে ডিমের প্রোটিনে মানুষের প্রয়োজনীয় essential amino acids থাকে। তাই শরীরের টিস্যু তৈরি ও মেরামতের জন্য ডিম একটি ভালো খাদ্য উৎস। সাম্প্রতিক একটি ২০২৬ সালের রিভিউতেও ডিমকে প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানের উৎস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডিম খাওয়ার উপকারিতা
১. শরীরের প্রোটিনের চাহিদা পূরণে সাহায্য করে
প্রোটিন আমাদের শরীরের পেশি, ত্বক, এনজাইম, হরমোনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো তৈরিতে প্রয়োজন।
ডিমের প্রোটিনে প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড থাকার কারণে এটি একটি ভালো মানের প্রোটিন উৎস। যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, বয়স্ক ব্যক্তি কিংবা বেড়ে ওঠা শিশুদের খাদ্যতালিকায় ডিম প্রোটিনের একটি সহজ উৎস হতে পারে।
তবে শুধু ডিম খেলেই শরীরের সব পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে—এমনটি নয়। সুষম খাদ্য গুরুত্বপূর্ণ।
২. মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কোলিন সরবরাহ করে
ডিমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান হলো কোলিন (Choline)।
NIH-এর Office of Dietary Supplements অনুযায়ী, কোলিন মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম, স্মৃতি, মাংসপেশির নিয়ন্ত্রণ এবং কোষের আবরণ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
NIH-এর তথ্য অনুযায়ী, একটি বড় hard-boiled ডিমে প্রায় 147 mg কোলিন থাকতে পারে, যা প্রাপ্তবয়স্কদের দৈনিক প্রয়োজনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ।
তবে এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—ডিম খেলে সরাসরি স্মৃতিশক্তি বাড়বে বা ডিম কোনো মস্তিষ্কের রোগ প্রতিরোধ করবে—এমন নিশ্চিত দাবি করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই।
৩. চোখের স্বাস্থ্যে ভূমিকা রাখতে পারে
ডিমের কুসুমে লুটেইন (Lutein) ও জিয়াজ্যান্থিন (Zeaxanthin) নামের ক্যারোটিনয়েড থাকে।
এগুলো চোখের রেটিনায় পাওয়া যায় এবং চোখের স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান।
ডিমের কুসুমে থাকা চর্বি এই ধরনের fat-soluble nutrients-এর শোষণে সহায়তা করতে পারে।
তবে ডিমকে চোখের রোগের চিকিৎসা হিসেবে দেখা উচিত নয়। চোখ ভালো রাখতে সামগ্রিক সুষম খাদ্য ও প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ।
৪. ভিটামিন B12-এর ভালো উৎস
Vitamin B12 রক্তকণিকা তৈরি, স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং DNA তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ।
ডিম B12-এর একটি খাদ্য উৎস হওয়ায় নিয়মিত সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে এটি উপকারী হতে পারে।
বিশেষ করে যারা প্রাণিজ খাবার খুব কম খান, তাদের জন্য B12-এর অন্যান্য উৎসের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
৫. ভিটামিন D-এর কিছুটা উৎস
ডিমের কুসুমে Vitamin D থাকে।
Vitamin D শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণ এবং হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তবে ডিম খাওয়াকে Vitamin D-এর প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। শরীরের Vitamin D-এর প্রয়োজন পূরণে খাদ্য, সূর্যালোক এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ।
৬. সেলেনিয়াম ও অন্যান্য খনিজ সরবরাহ করে
ডিমে selenium, phosphorus, iron সহ বিভিন্ন খনিজ থাকে।
সেলেনিয়াম শরীরের antioxidant defense system-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং thyroid hormone metabolism-এর সঙ্গেও যুক্ত।
অন্যদিকে phosphorus হাড় ও দাঁতের গঠন এবং শরীরের শক্তি বিপাকে ভূমিকা রাখে।
ডিম খেলে কি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে?
এটি ডিম নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচিত প্রশ্নগুলোর একটি।
কারণ ডিমের কুসুমে dietary cholesterol রয়েছে।
তবে গবেষণার ফলাফলকে সরলভাবে "ডিম খেলে হৃদরোগ হয়" বলা যায় না।
২০২০ সালে BMJ-তে প্রকাশিত একটি বড় prospective cohort study ও updated meta-analysis-এ ১.৭২ মিলিয়নের বেশি অংশগ্রহণকারী এবং ১,৩৯,১৯৫টি cardiovascular disease event-এর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণাটিতে দেখা যায়, প্রতিদিন একটি ডিম পর্যন্ত খাওয়ার সঙ্গে সামগ্রিক cardiovascular disease risk বৃদ্ধির উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।
আরেকটি systematic review ও meta-analysis-এ ২৩টি prospective study এবং প্রায় ১৪.২ লাখ মানুষ অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেখানে দিনে একটির বেশি ডিম খাওয়াও সামগ্রিক cardiovascular disease event-এর উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত ছিল না।
তবে সব গবেষণার ফল একই নয়। ২০১৯ সালে JAMA-তে প্রকাশিত একটি বড় observational study-তে dietary cholesterol ও ডিমের বেশি গ্রহণের সঙ্গে cardiovascular disease এবং মৃত্যুঝুঁকির একটি সম্পর্ক পাওয়া গিয়েছিল।
তাহলে সিদ্ধান্ত কী?
বর্তমান গবেষণা থেকে সবচেয়ে নিরাপদ ব্যাখ্যা হলো:
সুস্থ মানুষের সুষম খাদ্যতালিকায় পরিমিত ডিম খাওয়াকে শুধু কোলেস্টেরলের কারণে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই।
তবে একজন ব্যক্তির মোট খাদ্যাভ্যাস, রক্তের LDL cholesterol, diabetes, হৃদরোগের ইতিহাস এবং অন্যান্য ঝুঁকির বিষয় বিবেচনা করা উচিত।
হাঁসের ডিম বনাম মুরগির ডিম
এখন আসা যাক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে—হাঁসের ডিম নাকি মুরগির ডিম বেশি পুষ্টিকর?
দুটিই পুষ্টিকর, কিন্তু তাদের পুষ্টির ঘনত্ব এক নয়।
প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা ডিমের তুলনামূলক তথ্য অনুযায়ী, হাঁসের ডিমে মুরগির ডিমের তুলনায় সাধারণত বেশি ক্যালরি ও ফ্যাট থাকে এবং প্রোটিনের পরিমাণ সামান্য বেশি।
প্রতি ১০০ গ্রামে আনুমানিক তুলনা
| পুষ্টি উপাদান | হাঁসের ডিম | মুরগির ডিম |
|---|---|---|
| ক্যালরি | ~185 kcal | ~143 kcal |
| প্রোটিন | ~12.8 g | ~12.6 g |
| ফ্যাট | ~13.8 g | ~9.5 g |
| কার্বোহাইড্রেট | ~1.45 g | ~0.72 g |
| ক্যালসিয়াম | ~64 mg | ~56 mg |
| আয়রন | ~3.85 mg | ~1.75 mg |
| ফসফরাস | ~220 mg | ~198 mg |
উৎস: USDA-ভিত্তিক পুষ্টি তথ্য; ডিমের আকার, জাত, খাদ্য ও উৎপাদন পদ্ধতির কারণে প্রকৃত মান কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।
হাঁসের ডিমে কী বেশি?
হাঁসের ডিম সাধারণত আকারে বড় এবং এতে কুসুমের অনুপাতও বেশি। ফলে একই ওজনের তুলনায় এতে—
- বেশি ক্যালরি
- বেশি ফ্যাট
- সামান্য বেশি প্রোটিন
- বেশি আয়রন
- কিছু ক্ষেত্রে বেশি Vitamin A ও অন্যান্য micronutrients
পাওয়া যেতে পারে।
তবে হাঁসের ডিমের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এতে cholesterol-এর পরিমাণও বেশি।
USDA-ভিত্তিক পুষ্টি তথ্য অনুযায়ী, ১০০ গ্রাম কাঁচা হাঁসের ডিমে cholesterol প্রায় 884 mg পর্যন্ত হতে পারে।
তাই "হাঁসের ডিমে বেশি পুষ্টি = সবার জন্য বেশি ভালো"—এমন সিদ্ধান্ত ঠিক নয়।
তাহলে মুরগির ডিম নাকি হাঁসের ডিম—কোনটি খাবেন?
এর উত্তর ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে।
যদি কম ক্যালরি ও কম ফ্যাট চান -
মুরগির ডিম তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক।
যদি বেশি ক্যালরি ও nutrient density চান -
হাঁসের ডিম একটি ভালো বিকল্প হতে পারে।
যদি কোলেস্টেরল নিয়ে চিন্তা থাকে -
হাঁসের ডিমে cholesterol বেশি হওয়ায় নিয়মিত বেশি পরিমাণে খাওয়ার আগে চিকিৎসক বা dietitian-এর পরামর্শ নেওয়া ভালো।
সাধারণ সুস্থ মানুষের জন্য -
মুরগি বা হাঁস—দুই ধরনের ডিমই সুষম খাদ্যের অংশ হতে পারে।
ডিমের কুসুম কি বাদ দিতে হবে?
অনেকে মনে করেন শুধু egg white খেলেই সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর।
কিন্তু এতে ডিমের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি বাদ পড়ে যায়।
ডিমের কুসুমেই রয়েছে—
- কোলিন
- Vitamin A
- Vitamin D
- Vitamin B12
- lutein
- zeaxanthin
বিভিন্ন fat-soluble nutrients
NIH-এর তথ্য অনুযায়ী, ডিম কোলিনের একটি উল্লেখযোগ্য খাদ্য উৎস।
তাই চিকিৎসকের বিশেষ নির্দেশ না থাকলে শুধুমাত্র cholesterol-এর ভয়ে সবাইকে ডিমের কুসুম বাদ দিতে হবে—এমন সাধারণ নিয়ম নেই।
শিশুদের জন্য ডিম কতটা উপকারী?
শিশুদের বেড়ে ওঠার সময় পর্যাপ্ত protein ও micronutrients প্রয়োজন।
ডিম এসব পুষ্টির একটি সহজ উৎস হতে পারে।
বিশেষ করে ডিমে থাকা protein, choline, vitamin B12, selenium এবং অন্যান্য micronutrients শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান সরবরাহ করতে পারে।
২০২৬ সালে প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক review-তে ডিম ও ডিমের nutrients-এর সঙ্গে brain development ও function-এর সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা পর্যালোচনা করা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট cognitive outcome-এর ওপর ডিমের সরাসরি প্রভাব নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ—
ডিম শিশুদের জন্য পুষ্টিকর খাবার, কিন্তু "ডিম খেলে বুদ্ধি বাড়ে"—এমন সরল দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে করা উচিত নয়।
গর্ভাবস্থায় ডিম খাওয়া যাবে কি?
সঠিকভাবে রান্না করা ডিম গর্ভাবস্থায় পুষ্টিকর খাদ্যের অংশ হতে পারে।
ডিম থেকে protein, choline, B12 এবং অন্যান্য nutrient পাওয়া যায়। বিশেষ করে pregnancy-তে choline গুরুত্বপূর্ণ একটি nutrient। NIH অনুযায়ী, গর্ভবতী নারীদের দৈনিক choline-এর recommended amount 450 mg।
তবে গর্ভাবস্থায় কাঁচা বা আধা-সেদ্ধ ডিম এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ Salmonella-এর মতো foodborne infection-এর ঝুঁকি থাকে।
FDA ডিমের কুসুম ও সাদা অংশ ভালোভাবে রান্না করার পরামর্শ দেয়।
কাঁচা ডিম খাওয়া কি নিরাপদ?
না, কাঁচা বা আধা-সেদ্ধ ডিমে Salmonella থাকার ঝুঁকি থাকতে পারে।
FDA-এর তথ্য অনুযায়ী, পরিষ্কার ও অক্ষত খোসার ডিমেও Salmonella থাকতে পারে। তাই ডিম ভালোভাবে রান্না করা এবং কাঁচা ডিম ধরার পর হাত ও রান্নার সরঞ্জাম পরিষ্কার করা গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে—
- শিশু
- বয়স্ক ব্যক্তি
- গর্ভবতী নারী
- দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মানুষ
Salmonella infection-এর কারণে গুরুতর অসুস্থতার বেশি ঝুঁকিতে থাকতে পারেন।
ডিম কীভাবে খেলে সবচেয়ে ভালো?
ডিমের পুষ্টিগুণের পাশাপাশি কীভাবে রান্না করা হচ্ছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
তুলনামূলক ভালো পদ্ধতি
- সেদ্ধ ডিম
- অল্প তেলে রান্না করা ডিম
- সবজি দিয়ে ডিম
- কম তেলে omelette
অন্যদিকে অতিরিক্ত তেল, মাখন বা বেশি লবণ দিয়ে ডিম রান্না করলে খাবারের সামগ্রিক calorie, saturated fat ও sodium বেড়ে যেতে পারে।
তাই শুধু "ডিম স্বাস্থ্যকর কি না" নয়—পুরো খাবারের ধরনটিও গুরুত্বপূর্ণ।
ডিম সংরক্ষণে কী সতর্কতা প্রয়োজন?
ডিম কেনার সময়—
- ফাটা খোসার ডিম এড়িয়ে চলুন
- পরিষ্কার ও ভালো মানের ডিম বেছে নিন
- যথাযথভাবে ঠান্ডা স্থানে সংরক্ষণ করুন
- কাঁচা ডিম ধরার পর হাত ধুয়ে নিন
- কাঁচা ডিমের সংস্পর্শে আসা রান্নার সরঞ্জাম পরিষ্কার করুন
FDA-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, ডিম refrigerated অবস্থায় রাখা এবং কাঁচা ডিম ব্যবহারের পর হাত ও kitchen surface পরিষ্কার করা foodborne illness-এর ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
গবেষণা থেকে কী জানা গেল?
ডিম নিয়ে বিভিন্ন গবেষণার ফল সবসময় একরকম নয়। তাই কোনো একটি গবেষণার ফল দেখেই "ডিম খুব ভালো" বা "ডিম খুব খারাপ"—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।
উল্লেখযোগ্য গবেষণা
১. BMJ, 2020 -
Drouin-Chartier ও সহকর্মীদের গবেষণায় তিনটি বড় US cohort এবং পূর্ববর্তী prospective cohort studies-এর meta-analysis করা হয়। ১.৭২ মিলিয়নের বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণে moderate egg consumption—প্রতিদিন প্রায় একটি পর্যন্ত—cardiovascular disease risk বৃদ্ধির সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে যুক্ত পাওয়া যায়নি।
২. American Journal of Medicine, 2021 -
২৩টি prospective study এবং প্রায় ১.৪ মিলিয়ন মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা হয়, দিনে একটির বেশি ডিম খাওয়ার সঙ্গে overall cardiovascular disease risk উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি।
৩. NIH Office of Dietary Supplements -
NIH-এর তথ্য অনুযায়ী, ডিম কোলিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উৎস এবং কোলিন মস্তিষ্ক, স্নায়ুতন্ত্র ও কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৪. ২০২৬ সালের Nutrition Bulletin Review -
২০২৬ সালে প্রকাশিত একটি review-তে ডিমের protein, choline, vitamin B12, vitamin D, selenium, lutein, zeaxanthinসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান এবং brain development-এর সম্ভাব্য ভূমিকা পর্যালোচনা করা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট cognitive benefit নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
তাহলে প্রতিদিন ডিম খাওয়া কি ভালো?
সুস্থ মানুষের জন্য সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে নিয়মিত পরিমাণমতো ডিম খাওয়া সাধারণত পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।
তবে কারও যদি—
- উচ্চ LDL cholesterol থাকে
- হৃদরোগ থাকে
- diabetes থাকে
- চিকিৎসক dietary cholesterol সীমিত করতে বলে থাকেন
তাহলে নিজের জন্য উপযুক্ত পরিমাণ নির্ধারণে চিকিৎসক বা registered dietitian-এর পরামর্শ নেওয়া ভালো।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শুধু ডিম নয়—পুরো খাদ্যাভ্যাস।
ডিমের সঙ্গে শাকসবজি, ফল, পূর্ণ শস্য, ডাল, মাছ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর খাবারের সমন্বয় একটি ভালো dietary pattern তৈরি করতে পারে।
FAQ: ডিম নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন
হাঁসের ডিম কি মুরগির ডিমের চেয়ে বেশি পুষ্টিকর?
= প্রতি ১০০ গ্রাম হিসেবে হাঁসের ডিমে সাধারণত বেশি calorie, fat এবং কিছু micronutrient থাকে। তবে cholesterol-ও বেশি। তাই "বেশি পুষ্টিকর" মানেই সবার জন্য "বেশি উপকারী" নয়।
ডিম খেলে কি cholesterol বাড়ে?
= ডিম dietary cholesterol-এর উৎস। তবে ডিম খাওয়ার প্রভাব ব্যক্তিভেদে এবং পুরো খাদ্যাভ্যাসের ওপর নির্ভর করে। গবেষণায় সুস্থ সাধারণ মানুষের moderate egg consumption এবং cardiovascular disease-এর মধ্যে সরাসরি উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক সবসময় পাওয়া যায়নি।
প্রতিদিন একটি ডিম খাওয়া যাবে?
= অনেক সুস্থ মানুষের জন্য প্রতিদিন একটি ডিম সুষম খাদ্যের অংশ হতে পারে। তবে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত অবস্থা অনুযায়ী প্রয়োজন ভিন্ন হতে পারে।
হাঁসের ডিমে কি বেশি cholesterol থাকে?
= হ্যাঁ। প্রতি ১০০ গ্রাম হিসেবে হাঁসের ডিমে cholesterol মুরগির ডিমের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হতে পারে।
= কাঁচা ডিম খাওয়া কি ভালো?
না। কাঁচা বা আধা-সেদ্ধ ডিমে Salmonella infection-এর ঝুঁকি থাকতে পারে। ডিম ভালোভাবে রান্না করা নিরাপদ।
ডিমের কুসুম কি ফেলে দেওয়া উচিত?
= সবার জন্য নয়। কুসুমে choline, vitamin A, vitamin D, B12, lutein ও zeaxanthin-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ nutrients থাকে। তবে নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যগত কারণে চিকিৎসক কুসুম সীমিত করতে বলতে পারেন।
শেষ কথা
ডিমকে শুধু "প্রোটিনের খাবার" হিসেবে দেখলে এর সম্পূর্ণ পুষ্টিগুণ বোঝা যায় না। এতে protein-এর পাশাপাশি choline, vitamin B12, selenium, vitamin A, vitamin D এবং চোখ ও মস্তিষ্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু nutrients রয়েছে।
হাঁসের ডিমে সাধারণত বেশি calorie, fat এবং cholesterol থাকে, অন্যদিকে মুরগির ডিম তুলনামূলকভাবে কম calorie ও fat-যুক্ত। তাই কোনটি ভালো—এর উত্তর সবার জন্য এক নয়।
সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হলো নিজের স্বাস্থ্য, বয়স, দৈনিক খাদ্যাভ্যাস ও প্রয়োজন অনুযায়ী ডিমকে একটি সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে গ্রহণ করা।
আর ডিম খাওয়ার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো—কাঁচা বা আধা-সেদ্ধ ডিমের পরিবর্তে নিরাপদভাবে ভালোভাবে রান্না করা ডিম খাওয়া।
তথ্যসূত্র ও গবেষণা
- National Institutes of Health (NIH), Office of Dietary Supplements — Choline Fact Sheet.
- Drouin-Chartier JP, et al. Egg consumption and risk of cardiovascular disease: three large prospective US cohort studies, systematic review, and updated meta-analysis. BMJ. 2020;368.
- Krittanawong C, et al. Association Between Egg Consumption and Risk of Cardiovascular Outcomes: A Systematic Review and Meta-Analysis. American Journal of Medicine. 2021;134(1):76–83.e2.
- Shin JY, et al. Egg consumption in relation to risk of cardiovascular disease and diabetes: a systematic review and meta-analysis. American Journal of Clinical Nutrition. 2013;98(1):146–159.
- FDA — What You Need to Know About Egg Safety.
- Derbyshire EJ. Eggs and Associated Nutrients: Implications for Brain Development and Function From Conception to Early Adulthood. Nutrition Bulletin. 2026.
- USDA-based nutrient composition data comparing whole raw duck and chicken eggs.
Disclaimer
এই লেখাটি সাধারণ স্বাস্থ্য ও পুষ্টি-তথ্য দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি। এটি কোনো রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা বা ব্যক্তিগত medical advice-এর বিকল্প নয়। আপনার যদি উচ্চ cholesterol, হৃদরোগ, diabetes বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা থাকে, তাহলে ব্যক্তিগত খাদ্য পরিকল্পনার জন্য চিকিৎসক বা registered dietitian-এর পরামর্শ নিন।
Comment