Your Cart

  • Your cart is empty!
কোন খাবারগুলো শিশুদের একেবারেই দেওয়া উচিত নয়?
Nazmul Hasan Aug 03, 2026 140

কোন খাবারগুলো শিশুদের একেবারেই দেওয়া উচিত নয়?

শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য নিরাপদ, পুষ্টিকর এবং স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের বিকল্প নেই। কিন্তু বর্তমানে বাজারে এমন অনেক খাবার সহজলভ্য, যেগুলো দেখতে আকর্ষণীয় হলেও পুষ্টিগুণ খুবই কম এবং অনেক ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষ করে যেসব খাবার অননুমোদিত কারখানায় তৈরি হয়, সঠিক মান নিয়ন্ত্রণের আওতায় থাকে না অথবা অতিরিক্ত চিনি, লবণ, তেল ও কৃত্রিম উপাদানে ভরপুর—সেগুলো শিশুদের জন্য নিয়মিত খাওয়ানো উচিত নয়।


১. নিম্নমানের ও খোলা চিপস

রাস্তার পাশের দোকান বা ছোট প্যাকেটে বিক্রি হওয়া অনেক চিপসে নিম্নমানের তেল, অতিরিক্ত লবণ, কৃত্রিম ফ্লেভার ও রং ব্যবহার করা হতে পারে। একই তেল বারবার ব্যবহার করলে তাতে ক্ষতিকর যৌগ তৈরি হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

নিয়মিত খেলে হতে পারে— 

  • স্থূলতা (মোটা হয়ে যাওয়া)
  • উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি
  • হজমের সমস্যা
  • অল্প বয়সেই অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস তৈরি হওয়া

২. কৃত্রিম ফলের জুস ও রঙিন পানীয়

অনেক সস্তা ফলের জুস বা রঙিন পানীয়তে প্রকৃত ফলের পরিমাণ খুব কম থাকে। এগুলোতে প্রায়ই অতিরিক্ত চিনি, কৃত্রিম রং, ফ্লেভার এবং বিভিন্ন খাদ্য সংযোজক ব্যবহার করা হয়।

এসব পানীয় শিশুদের—

  • দাঁতের ক্ষয় বাড়ায়
  • ওজন বৃদ্ধি করে
  • রক্তে শর্করার ওঠানামা ঘটায়
  • পুষ্টিকর খাবারের প্রতি আগ্রহ কমিয়ে দেয়

৩. নিম্নমানের আইসক্রিম

অননুমোদিত বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি আইসক্রিমে নিম্নমানের দুধ, ভেজাল চর্বি, কৃত্রিম রং বা অপরিচ্ছন্ন পানি ব্যবহারের ঝুঁকি থাকে। সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ না করলে ব্যাকটেরিয়াও বৃদ্ধি পেতে পারে।

এ ধরনের আইসক্রিম খাওয়ার ফলে হতে পারে—

  • ডায়রিয়া
  • বমি
  • খাদ্যে বিষক্রিয়া
  • পেটের সংক্রমণ

৪. সস্তা চকলেট, ক্যান্ডি ও ললিপপ

অতিরিক্ত চিনি ও কৃত্রিম রংযুক্ত ক্যান্ডি, ললিপপ এবং নিম্নমানের চকলেট শিশুদের খুব প্রিয় হলেও এগুলো নিয়মিত খাওয়া উচিত নয়।

দীর্ঘদিন খেলে হতে পারে—

  • দাঁতের ক্ষয়
  • অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ
  • পুষ্টির ঘাটতি
  • অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস

৫. রঙিন জেলি ও অজানা উৎসের মিষ্টি খাবার

খোলা বা অজানা উৎসের জেলি, জেলি কাপ এবং অতিরিক্ত রঙিন মিষ্টি খাবারে অননুমোদিত রং বা নিম্নমানের উপাদান ব্যবহারের ঝুঁকি থাকতে পারে।


৬. অতিরিক্ত ঝাল, মশলাযুক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার

ফুচকা, চটপটি, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, প্যাকেটজাত ভাজা নাস্তা, অতিরিক্ত মশলাযুক্ত ফাস্ট ফুড ইত্যাদি শিশুদের নিয়মিত খাওয়ানো উচিত নয়।

এগুলোতে সাধারণত থাকে—

  • অতিরিক্ত লবণ
  • অতিরিক্ত তেল
  • স্যাচুরেটেড ও ট্রান্স ফ্যাট
  • অতিরিক্ত ক্যালরি

ফলে হতে পারে—

  • বদহজম
  • কোষ্ঠকাঠিন্য
  • ওজন বৃদ্ধি
  • ভবিষ্যতে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি

৭. রাস্তার পাশের খোলা খাবার

খোলা অবস্থায় বিক্রি হওয়া আচার, শরবত, কাটা ফল, খোলা চিপস, ভাজাপোড়া বা অন্যান্য খাবারে ধুলাবালি, মাছি এবং জীবাণু সহজেই বসতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে নিরাপদ পানিও ব্যবহার করা হয় না।

এসব খাবার থেকে হতে পারে—

  • টাইফয়েড
  • ডায়রিয়া
  • আমাশয়
  • খাদ্যে বিষক্রিয়া

৮. অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত (Ultra-Processed) খাবার

প্রক্রিয়াজাত নুডলস, প্রসেসড সসেজ, নাগেটস, কিছু প্যাকেটজাত স্ন্যাকস, মিষ্টি বিস্কুট, চিনি-সমৃদ্ধ সিরিয়াল ও অনুরূপ খাবার নিয়মিত খাওয়ানো উচিত নয়। এগুলোতে প্রায়ই অতিরিক্ত লবণ, চিনি, চর্বি এবং বিভিন্ন খাদ্য সংযোজক থাকে, কিন্তু প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও আঁশের পরিমাণ কম।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, এসব খাবার যদি খাওয়াতেই হয়, তবে তা যেন খুব সীমিত পরিমাণে এবং মাঝে মাঝে হয়—প্রতিদিনের খাবারের অংশ হিসেবে নয়।


৯. মেয়াদোত্তীর্ণ বা লেবেলবিহীন খাবার

যে কোনো মেয়াদোত্তীর্ণ, লেবেলবিহীন বা অনুমোদনহীন খাবার শিশুদের কখনোই দেওয়া উচিত নয়। প্যাকেটের গায়ে উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদ, প্রস্তুতকারকের নাম এবং অনুমোদনের তথ্য আছে কি না, তা দেখে কেনা উচিত।


অভিভাবকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

শিশুদের সম্পূর্ণভাবে সব ধরনের প্যাকেটজাত খাবার থেকে দূরে রাখা সব সময় বাস্তবসম্মত নাও হতে পারে। তবে অভিভাবকদের উচিত নিরাপদ ও অনুমোদিত ব্র্যান্ডের পণ্য বেছে নেওয়া, খাদ্যের লেবেল পড়ে কেনা, অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও তেলযুক্ত খাবার সীমিত রাখা এবং প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফল, শাকসবজি, দুধ, ডিম, মাছ, ডাল ও ঘরে তৈরি স্বাস্থ্যকর নাস্তার পরিমাণ বাড়ানো। এতে শিশুর সুস্থ বৃদ্ধি ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।

Comment